আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা এবং বিভিন্ন সহায়তার কাঙ্ক্ষিত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে প্রণোদনা ও সহায়তার ব্যবস্থা করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে অনেক সময় এসব উদ্যোগের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায় না।

তাঁর মতে, সরকারি সেবা ও সহায়তা কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। শুধু নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শুধু রাজনৈতিক সংস্কার যথেষ্ট নয়। আমলাতন্ত্র, বেসামরিক প্রশাসন এবং প্রকৌশল বিভাগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি মনে করেন, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা প্রদান এবং সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে দেশ গঠনে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। জাতীয় উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের দায়িত্বের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। দেশ গঠনের কাজে বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।

প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে এর আগেও জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কায়সার কামাল। গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরও আইনসভায় বিল পাঠাতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সে সময় আইনপ্রণয়নের প্রক্রিয়া কার্যকর রাখতে অনুমোদিত বিল দ্রুত সংসদে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সরকারি প্রণোদনা বিতরণে জটিলতার বিষয়ে মঙ্গলবারের বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচির নাম বা ক্ষতিগ্রস্ত উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করেছেন বলে যাচাই করা প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।

তাঁর বক্তব্যে মূলত প্রশাসনিক সংস্কার, সরকারি সেবার কার্যকারিতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।