তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল রেখেছে সরকার। সম্ভাবনাময় কোনো উদ্যোগ যেন অর্থের অভাবে মাঝপথে বন্ধ হয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, তরুণদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের নতুন উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতের জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, এই অর্থ স্টার্টআপ তহবিল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা তৈরি, নারীর উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তার পরিকল্পনা
এর আগে গত ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ইয়ুথ, স্টার্টআপস অ্যান্ড দ্য বাংলাদেশ অব পসিবিলিটিজ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেখানে তিনি জানান, স্টার্টআপ খাতের জন্য বরাদ্দ করা তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তাদের ৫ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মেধাবী তরুণদের নতুন উদ্যোগ গ্রহণে সরকার পাশে থাকবে। কোনো উদ্যোগ প্রথমবার সফল না হলেও সেটি মূল্যায়নের পর উদ্যোক্তাদের আবারও সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের মাধ্যমে এই অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানানো হয়।
প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতে, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
এআই, ফ্রিল্যান্সিং, স্মার্ট কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা
স্টার্টআপ তহবিলের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক ধারণা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নে তরুণদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তবে এই তহবিল থেকে কারা কীভাবে অর্থ পাবেন, আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে এবং অর্থ ব্যবহারের শর্তগুলো কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সরকারের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তরুণেরা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবেন। এতে দেশের প্রযুক্তি খাতের বিকাশের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।