রাজধানী ঢাকায় জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে ৮ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে সংসদের অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলে আশপাশের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে।
৫ নভেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও ক্ষতিকারক বস্তু বহন বা পরিবহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা ৮ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকার সীমানার মধ্যে রয়েছে মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরোনো বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত সড়ক। এ ছাড়া বাংলামোটর লিংক রোড থেকে সার্ক ফোয়ারা, পান্থপথ থেকে ফার্মগেট, শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল এবং রোকেয়া সরণি থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত নির্দিষ্ট অংশ এর অন্তর্ভুক্ত। ইন্দিরা রোড থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে।
এসব সড়কে সব সময় যান চলাচল বন্ধ থাকবে, এমন ঘোষণা গণবিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি। তবে সংসদ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা তল্লাশি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে ডাইভারশন দেওয়া হলে ফার্মগেট, বিজয় সরণি, বাংলামোটর, মহাখালী, শ্যামলী ও সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায় চলাচলে ধীরগতি তৈরি হতে পারে। তাই এসব পথে যাতায়াতের আগে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশনা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে একাধিক আয়োজন ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা, নয়াপল্টন, কাকরাইল, ফার্মগেট, আসাদগেট ও তেজগাঁও এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়েছিল। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’, নয়াপল্টন থেকে শোভাযাত্রা এবং তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। তবে ওই আয়োজনগুলো ৭ নভেম্বরের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেগুলোর কারণে ৮ নভেম্বরও একই ধরনের যানজট থাকবে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
যাঁদের ফার্মগেট, বিজয় সরণি, সংসদ ভবন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ কিংবা তেজগাঁও এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প সড়ক বিবেচনা করতে পারেন। শ্যামলী ও মিরপুরের দিক থেকে ধানমন্ডি বা কলাবাগানমুখী যাত্রায় মূল সড়কে চাপ থাকলে লেক রোড ও খেজুরবাগান এলাকার সংযোগ সড়ক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব পথেও যানবাহনের চাপ তৈরি হলে যাত্রার সময় বাড়তে পারে। তাই বিকল্প পথ ব্যবহারের আগে ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
রাজধানীর অন্য এলাকাতেও দিনের বিভিন্ন সময়ে যানজট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময়, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে। ফলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় হাতে রাখা প্রয়োজন।
যাত্রীদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার, যাত্রার আগে সড়কের অবস্থা যাচাই এবং দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জরুরি কাজ থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বের হওয়া এবং সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা ভালো।
সব মিলিয়ে, ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সংসদ ভবন ও আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ৮ নভেম্বরের জন্য ডিএমপির নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ যানজট তালিকা বা নির্দিষ্ট সড়ক বন্ধের ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তাই যাত্রীদের পুরোনো সতর্কতাকে আজকের নিশ্চিত যানজট পরিস্থিতি ধরে না নিয়ে যাত্রার আগে সর্বশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
