দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী পৃথক অভিযানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, আতশবাজি, গবাদিপশু, কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানের মধ্যে জয়পুরহাটে মাদকসহ একজন এবং রংপুরে বিরল পাথরসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে যৌথ অভিযানে মোহাম্মদ রেজওয়ান নামে একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৮৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০৮টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, দুটি মোবাইল ফোন ও ৭ হাজার ৪৭০ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার ৫৭০ টাকা।
খুলনার গোগা সীমান্ত এলাকায় ২১ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ৪১৭ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির হিসাবে এসব সিরাপের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ টাকা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ৬০ বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় আতশবাজি, বাসমতি চাল, শাড়ি, গবাদিপশু, তেল, মদসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এসব অভিযানে একটি ইজিবাইকও জব্দ হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ৪৫ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ টাকা।
সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ৪৮ বিজিবির অভিযানে গবাদিপশু, ফুচকা, কম্বল, জুস ও মাছসহ প্রায় ২২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। লালমনিরহাটে ৬১ বিজিবি ভারতীয় ৪২ বোতল ইস্কাপ সিরাপ উদ্ধার করেছে।
এদিকে ছোটহরিণা ব্যাটালিয়ন ৩১ ঘনফুট অবৈধভাবে পরিবহন করা সেগুন কাঠ জব্দ করেছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়েও সীমান্তজুড়ে একই ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর পৃথক ছয় অভিযানে বিজিবি ইয়াবা ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য জব্দ করে। এর মধ্যে কক্সবাজারের পালংখালী সীমান্তে দুইজনকে আটক করে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর পাঁচটি পৃথক অভিযানে ৩ লাখ ২৪ হাজার ইয়াবা, ভারতীয় পণ্য ও অস্ত্র জব্দের তথ্য জানিয়েছিল বিজিবি। কক্সবাজারের টেকনাফ ও পালংখালীতে দুটি অভিযানে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার এবং দুজনকে আটক করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালানি পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট অভিযানে জব্দ করা পণ্য ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযানের পরিমাণ ও জব্দ হওয়া পণ্যের ধরন দেখাচ্ছে, মাদক পাচারের পাশাপাশি ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযানের স্থান, পণ্যের ধরন ও পরিমাণ আলাদা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর পরবর্তী তদন্তেই পাচারচক্রের বিস্তৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।




