দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) নেতারা।

বৈঠকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্পের উৎপাদন পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বিজিএমইএ নেতারা জানান, দেশের পোশাক খাত বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের অভাব উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। কারখানাগুলোতে সময়মতো উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন।

আলোচনায় ব্যাংক ঋণের সুদের হার নিয়েও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থায়নের খরচ বেড়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় এবং নতুন বাণিজ্য বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এ ছাড়া বাংলাদেশের LDC উত্তরণের পর রপ্তানি খাতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন সুযোগ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিজিএমইএ নেতারা পোশাক শিল্পের উন্নয়নে নীতিগত সহায়তা, জ্বালানি নিশ্চয়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে শফিকুর রহমান দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতে পোশাক শিল্পের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। শিল্প উদ্যোক্তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত এই খাতের স্থিতিশীলতা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং নতুন বাণিজ্য কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।