শেখ হাসিনা কোনো বৈধ শাসক ছিলেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিগত সরকারের নির্বাচনব্যবস্থা, জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরিণতি ভালো হয় না।

রিজভীর অভিযোগ, শেখ হাসিনার সরকার জনগণকে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরি এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি।

অন্যদিকে বর্তমান সরকারের সার আমদানির আগাম প্রস্তুতির প্রশংসা করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের আগাম উদ্যোগের কারণেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে সার আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি জনবান্ধব সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের দুঃখ-কষ্ট বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যে সরকার জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না, সেই সরকার জনগণের সংকট ও বিপদে পাশে থাকে।

বক্তব্যে ভারতের এক মন্ত্রীর মন্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া জানান রিজভী। তাঁর দাবি, ওই মন্ত্রী বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের ঘটনার সঙ্গে ভারতের একটি আন্দোলনের তুলনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তবে বাংলাদেশকে ইঙ্গিত করে কোনো বক্তব্য দেওয়া হলে সে বিষয়ে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে।

শেখ হাসিনার শাসনামলের নির্বাচনব্যবস্থার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একতরফা ও মধ্যরাতের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই সময়ে জনগণ ভোটাধিকার ও স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার হারিয়েছিল।

বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রিজভীর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ আ/ত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পা/চারের অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে পরিচালিত সরকারকে জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয় না। জনগণকে সত্য কথা বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং সংকটের সময় পাশে থাকাই একটি জনবান্ধব সরকারের দায়িত্ব।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শাসকদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। কোনো অন্যায়ই শেষ পর্যন্ত জবাবদিহির বাইরে থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।