সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। মাসভিত্তিক হিসাবে এটি গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় আয় বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৭৬৬ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই মাসে এসেছিল ২ দশমিক ৬৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৮ কোটি ডলার।

তবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স কমেছে। আগস্টে দেশে এসেছিল প্রায় ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।

এর আগে টানা ছয় মাস মাসিক রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলারের ওপরে ছিল। মার্চে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং মে মাসে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার এসেছিল। জুন থেকে প্রবাহ ৩০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে আসে।

মাসিক হিসাবে গতি কমলেও পুরো প্রান্তিকের চিত্র তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ মোট ৮ দশমিক ৫৯১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭ দশমিক ৫৮৬ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রথম প্রান্তিকের তিন মাসেই প্রতি মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। জুলাইয়ে প্রায় ২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন, আগস্টে ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন এবং সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসাইন খান সেপ্টেম্বরের প্রবাহের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সেখানে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়কে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন; ফলে ওই অঞ্চলের শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রবাসী আয় পাঠানোর সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে মাসিক প্রবাহে সাম্প্রতিক এই ধীরগতি থাকলেও প্রথম প্রান্তিকে ১৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

তবে সামনে রেমিট্যান্সের গতি কতটা বজায় থাকে, তা নিয়ে নজর থাকবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, প্রবাসী কর্মীদের আয় ও কর্মসংস্থান এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতার ওপর আগামী মাসগুলোর প্রবাহ নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল। তার পর নতুন অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সেপ্টেম্বরের মাসিক প্রবাহে কিছুটা শ্লথতা দেখা গেছে।