বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৯ তলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করিডোরে তিনটি সাপের বাচ্চা দেখা যাওয়ায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট সকালে অফিস কার্যক্রম শুরুর পর সাপগুলো দেখতে পান সেখানে কর্মরতরা। পরে মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা তিনটি সাপকেই মেরে ফেলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সকালে করিডোরে প্রথমে দুটি সাপ চোখে পড়ে। পরে একই এলাকায় আরও একটি সাপ দেখা যায়। সাপগুলো করিডোরে ছোটাছুটি করতে থাকলে উপস্থিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। ৬ নম্বর ভবনের ওই তলাতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কার্যালয় রয়েছে।

ঘটনার সময় চিৎকার ও হইচইয়ের মধ্যে একটি সাপ কিছুক্ষণের জন্য চোখের আড়ালে চলে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির পর সেটিকেও পাওয়া যায় এবং তিনটি সাপকেই মেরে ফেলা হয় বলে সচিবালয়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সচিবালয় পুলিশের নিরাপত্তা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুল কবীর জানান, সকালে অফিস খোলার পর ১৯ তলার করিডোরে তিনটি সাপ দেখা যায়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্মচারীরা সেগুলো মেরে ফেলেন।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মৃত সাপগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে সেগুলো কোন প্রজাতির ছিল, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সাপগুলো আকারে বাচ্চা ছিল এবং ১৯ তলার কোথাও সেগুলোর জন্ম হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিকও করিডোরে সাপ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এত উঁচু তলায় সাপগুলো কীভাবে পৌঁছাল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে সম্ভাব্য উৎস নিয়ে নানা ধারণা তৈরি হয়েছে। কারও কারও ধারণা, ভবনের কোনো স্টোরেজ বা ফাঁকা জায়গায় সাপ থাকতে পারে। তবে এমন কোনো ধারণা এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

সচিবালয়ে দায়িত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার আনোয়ার পারভেজ জানিয়েছেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে সাপ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসকে সেখানে যেতে হয়নি।

১৯ তলার মতো উঁচু একটি সরকারি ভবনে একসঙ্গে তিনটি সাপের বাচ্চা পাওয়ার ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেগুলো কোথা থেকে এসেছে। ভবনের ভেতরে আরও সাপ রয়েছে কি না এবং সম্ভাব্য প্রবেশ বা জন্মস্থল কোথায়, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো পরীক্ষা করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।