মানুষের জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব বিষয় নিয়েই রাজনীতি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা প্রকল্প, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতা, এলপিজির মূল্য এবং অন্যান্য চলমান ইস্যু নিয়েও কথা বলেন তিনি।
জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যের মূল কথা ছিল, রাজনীতি কেবল নির্বাচনী প্রচার বা দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের অধিকার, অর্থনীতি, উন্নয়ন, সামাজিক নীতি, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সবকিছুর সঙ্গেই রাজনীতির সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন অবস্থান থাকা অস্বাভাবিক নয়। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতপার্থক্য, বিতর্ক ও রাজনৈতিক অবস্থান থাকাটাই স্বাভাবিক।
তবে সেই রাজনীতি যেন সহিং/সতা, হু/মকি, নৈরাজ্য বা ব্যক্তিগত আ/ক্র/মণে রূপ না নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতবিরোধকে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি, নির্বাচন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিতর্ক চলছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়েও অবস্থান জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার আগে অতীতের অপরাধ ও রাজনৈতিক দায় স্বীকার এবং অনুশোচনার একটি মৌলিক ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। তার মতে, সেই জায়গা তৈরি হলে রাজনৈতিক সমঝোতার আলোচনা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। কোনো রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী বা তাদের সমর্থকদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়, তবে সেই আলোচনার জন্যও নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি প্রয়োজন।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনেও জাহেদ উর রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট ও মতভেদকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মোকাবিলা করা উচিত। বিরোধী দল কর্মসূচি পালন করবে, সরকার তার নীতি ব্যাখ্যা করবে এবং জনগণ এসব অবস্থান বিচার করবে, এটিই গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
‘সবকিছু নিয়েই রাজনীতি হওয়া উচিত’ বক্তব্যটির মাধ্যমে তিনি মূলত রাজনীতিকে জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার প্রবণতার বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্যা রাজনীতি হওয়ায় নয়, বরং সেই রাজনীতি কীভাবে করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়।