প্রতিটি উপজেলায় ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

দেশের কোনো উপজেলা বা অঞ্চলকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্য এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, দলীয় পরিচয় ও আঞ্চলিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ৫০৩টি উপজেলার মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উদ্যোগে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক সভাটির আয়োজন করা হয়।

উন্নয়নের সুফল পৌঁছাতে হবে সব এলাকায়

আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। একটি উপজেলার মানুষ যে সুযোগ-সুবিধা পাবে, পাশের উপজেলার মানুষ তা থেকে বঞ্চিত হবে—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়।

তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন কার্যক্রমে অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সব এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। অর্থাৎ, উন্নয়নের সুযোগ যেন কেবল নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষও এর সুফল পায়—এটাই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য।

জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বের ওপর জোর

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, তাঁদের কাজ শুধু দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁরা দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত। জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

সমবায় ও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গ

আলোচনা সভায় গ্রাম ও শহরে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সমবায় সমিতিগুলোকে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় এবং হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সহায়ক সেবা কেনার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। তবে এই অর্থের তথ্যটি সৌরবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত উদ্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত; একে ৫০৩টি উপজেলায় সুষম উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই হবে মূল বিবেচ্য

দেশের সব উপজেলায় উন্নয়নের ভারসাম্য রক্ষার এই বক্তব্য সরকারের একটি ঘোষিত অগ্রাধিকার তুলে ধরে। তবে কোন কোন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, উপজেলা অনুযায়ী উন্নয়ন বরাদ্দ কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা কী—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিতে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে পরিকল্পনার বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সুষম উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজনভিত্তিক প্রকল্প নির্বাচন, স্বচ্ছ বরাদ্দ এবং কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সরকারের ঘোষণার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে, দেশের সব উপজেলার মানুষ কতটা সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন।