২০২৭ সালে হজ পালনে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকারি প্যাকেজের মূল্য কমিয়েছে সরকার। নতুন প্যাকেজে খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও আগের বছরের তুলনায় দুটি সরকারি প্যাকেজেই ব্যয় কমেছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া বিবৃতিতে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের সরকারি হজ প্যাকেজ ১-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকা। ২০২৬ সালে এই প্যাকেজের মূল্য ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা। সে হিসাবে ব্যয় কমেছে ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা।

নতুন প্যাকেজ ১-এর মধ্যেই খাবার বাবদ ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় প্যাকেজের মোট মূল্য কমানোর পাশাপাশি খাবারের ব্যয়ও আলাদাভাবে বহন করতে হবে না বলে সর্বশেষ সংসদীয় বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি প্যাকেজ ২ বা সাশ্রয়ী প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে একই প্যাকেজের মূল্য ছিল ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা। ফলে এই প্যাকেজে ব্যয় কমেছে ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা। এতে খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হজের মোট ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিমান ভাড়া। ২০২৬ সালে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। ২০২৭ সালের জন্য তা ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হজের মোট ব্যয়ের প্রায় তিন চতুর্থাংশ সৌদি আরবে আবাসন, মিনা ও আরাফাতের তাঁবু, পরিবহন, কোরবানি, ভিসা, বীমা ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের অংশে সবচেয়ে বড় ব্যয় বিমান টিকিট। এ কারণেই বিমান ভাড়া কমানো সামগ্রিক প্যাকেজের মূল্য কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সরকারি প্যাকেজ ১-এর হজযাত্রীদের জন্য মক্কায় মসজিদুল হারামের তুলনামূলক কাছাকাছি এলাকায় এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মিনায় জোন ২-এর তাঁবু এবং নির্ধারিত সার্ভিস প্যাকেজ অনুযায়ী সেবা থাকবে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করে কক্ষের মানোন্নয়ন ও স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

সাশ্রয়ী প্যাকেজ ২-এ মক্কায় হারাম শরিফ থেকে প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববি থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। দূরত্ব দুই কিলোমিটারের বেশি হলে সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী সালাওয়াত বাস সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সরকার নির্ধারিত সাধারণ প্যাকেজের মূল্য রাখা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত ন্যূনতম সেবার মানের নিচে কোনো বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। প্যাকেজের ব্যয়ের মধ্যে খাবার ও নির্ধারিত অন্যান্য বাধ্যতামূলক খরচ রাখতে হবে।

২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুকরা নির্ধারিত প্যাকেজ বেছে নিয়ে প্রাথমিকভাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা ৮ এপ্রিল ২০২৭। ২০২৭ সালের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে ১৫ মে, তবে চাঁদ দেখা ও সৌদি কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর তারিখ নির্ভর করবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেছেন, হজকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজ করতে বিমান ভাড়া এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন সেবা ব্যয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রথম ঘোষণার সময় সরকারি প্যাকেজ ১-এর মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা বলা হয়েছিল। তবে ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ধর্মমন্ত্রীর সর্বশেষ বিবৃতিতে এই অঙ্ক ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। সাশ্রয়ী প্যাকেজ ২-এর ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকার অঙ্ক উভয় ঘোষণাতেই একই রয়েছে।