রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার ও প্রত্যাবাসনে জোর দিল এবি পার্টি
রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণে আয়োজিত সেমিনারে গণহত্যার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু শরণার্থী সমস্যা হিসেবে না দেখে এর মূল কারণ ও বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বিতভাবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণে ২৫ আগস্টকে ঘিরে এবি পার্টির কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিষয়টি সামনে আসে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযান ও ব্যাপক সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ওই সময়ের হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির নথি প্রকাশ করেছে।
সেমিনারের আলোচনায় রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এর আগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় বলেছিলেন, প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি প্রয়োজন। ২০২৫ সালের কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক সংলাপেও তিনি একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের প্রধান দাবি এখনো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখে পৌঁছায়। ২০২৬ সালেও আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি এবং ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ও জীবিকার সীমাবদ্ধতা সংকটকে আরও কঠিন করে রেখেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের আগস্টে বড় ধরনের নতুন ঢলের সময় প্রায় ৭ লাখ ৪২ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে বিভিন্ন দফায় আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এখন ১০ লাখের অনেক বেশি।
এদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যার আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়ায়ও নতুন অগ্রগতি সামনে এসেছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলাটি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারাধীন। ২৮ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকে গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী দাউদা এ জ্যালো জানান, মামলাটির রায় আগামী অক্টোবরে হতে পারে।
বাংলাদেশ এই বিচারপ্রক্রিয়াকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। একই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গাম্বিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতিও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে পালানোর ঘটনা ছিল রেকর্ডসংখ্যক প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর; প্রায় ৯০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। সংস্থাটি বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত, নিপীড়ন, নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশে সীমিত সুযোগ-সুবিধা রোহিঙ্গাদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে বাধ্য করছে।
বাংলাদেশের জন্য সংকটটির চাপও ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ২০২৬ সালের এক বক্তব্যে বলা হয়েছে, আট বছরের বেশি সময় ধরে দেশটি ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং মানবিক সহায়তার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির অভাব নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন।
২০২৫ সালের কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক সংলাপে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল।
রোহিঙ্গা গণহত্যার আট বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন সংকটের সামনে দুটি বিষয় পাশাপাশি রয়েছে—দায়ীদের আন্তর্জাতিক বিচারের মুখোমুখি করা এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করা। আইসিজের সম্ভাব্য রায় এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ভবিষ্যৎ গতিপথ এ দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
চাইলে এটিকে আমি আরও সংবাদপত্রসুলভ ও ধারালো করে ৬০০–৭০০ শব্দের প্রকাশযোগ্য ভার্সনে, অথবা প্রথম আলো/যুগান্তর/বাংলা ট্রিবিউন ঘরানার আলাদা টোনে পুনর্লিখে দিতে পারি।


