প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বৈদেশিক আয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসকে বাধাগ্রস্ত করার আহ্বান দেশের মানুষের জীবন-জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে ‘কমল কুঁড়ি’ রচনা প্রতিযোগিতা উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মাত্রা বিবেচনা না করে বিষয়টিকে দ্রুত রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলের এক শীর্ষ নেতার রেমিট্যান্স বন্ধের আহ্বানের সমালোচনা করেন তিনি। রিজভীর প্রশ্ন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বন্ধ করার হুমকি দিয়ে রাজনৈতিকভাবে কী অর্জন করতে চাওয়া হচ্ছে?
তিনি বলেন, প্রবাসী আয় বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। সেই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবাহ বন্ধের হুমকি দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি উৎস নয়, দেশের অসংখ্য পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর অনেক পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্ভর করে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
রিজভী দাবি করেন, ১৯৭১, ১৯৮৬ এবং ২০২৪ সালেও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানে একই প্রবণতা দেখা গেছে। তাঁর বক্তব্যে এসব সময়ের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দলটির সমালোচনা উঠে আসে। তবে এগুলো রিজভীর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ।
তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরই রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম কিংবা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সমালোচনা ও সংবাদ সম্মেলন করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ওপর হা/ম/লা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য রেমিট্যান্স বন্ধের মতো কর্মসূচির হুমকি দেওয়া দেশের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি শুধু সভা-সমাবেশ, মিছিল ও স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের সমাজ, রাষ্ট্র, জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
এ জন্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পড়াশোনা, মেধা, জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৪ সালের আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। তাই ছাত্ররাজনীতিতে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও জ্ঞানভিত্তিক চর্চা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি নিয়ে রিজভীর এসব মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। তবে বাস্তবে প্রবাসী আয় বন্ধের কোনো কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে কিংবা এর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, এমন তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।
বিষয়টি নিয়ে তাঁর বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য হলো, রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিবাদের কারণে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে।







