বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণা ও উন্নয়ন—R&D খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
২৪ আগস্ট ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে Bangladesh Industry Research, Development and Innovation—BIRDI Grants Awarding Ceremony-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের Skills for Industry Competitiveness and Innovation Program—SICIP আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে গবেষণা ও উন্নয়নে জিডিপির মাত্র প্রায় ০.৩ শতাংশ ব্যয় করে। দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো সমপর্যায়ের বা প্রতিযোগী অর্থনীতির তুলনায় এই হার অনেক কম।
শিল্প পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও সীমিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, দেশের manufacturing প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও innovation-এ শ্রমিকপ্রতি বছরে গড়ে ৫০০ টাকারও কম ব্যয় করছে।
আমীর খসরুর মতে, এই সীমিত গবেষণা বিনিয়োগের কারণে বাংলাদেশ global market share, foreign direct investment বা FDI এবং high-value employment তৈরির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু কম শ্রমমূল্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা করার কৌশল আর দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়। বাংলাদেশকে আরও উন্নত প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা এবং innovation-নির্ভর শিল্প কাঠামোর দিকে যেতে হবে।
এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা যেন শুধু তাত্ত্বিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং শিল্পের বাস্তব সমস্যা সমাধানে ব্যবহার হয়—এমন কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রথম ধাপে ১২টি গবেষণা প্রকল্পে মোট ২১ কোটি টাকার বেশি অনুদান দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে AI-ভিত্তিক fabric inspection, পানি সাশ্রয়ী smart dyeing, vaccine-grade enzyme, solar-powered cold storage, pharmaceuticals, agriculture, electric mobility, electronics ও energy-related research।
ADB-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর Qingfeng Zhang-ও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য দেশীয় উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং উচ্চ উৎপাদনশীলতার চাকরি সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থনীতির পরবর্তী ধাপে তাই শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়—গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অন্যতম বড় পরীক্ষা।



