আন্তর্জাতিক প্রযোজনার বাংলা সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা অধরা খান। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এবার সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। পরিচালকের অপেশাদার আচরণ, যথাযথ যোগাযোগের অভাব এবং শুটিংয়ের পরিকল্পনা নিয়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন এই অভিনেত্রী।

রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরে অধরা জানান, সিনেমাটি থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল তাঁকে। সেই পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

অধরার অভিযোগ, সিনেমাটির নির্মাণপ্রক্রিয়ায় পেশাদার যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। শুটিংয়ের সময়সূচি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না পাওয়ায় তাঁর অন্যান্য কাজেও প্রভাব পড়ে। এমনকি তাঁর অংশের শুটিংয়ের মাত্র এক দিন আগে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অভিনেত্রী জানান, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আন্তর্জাতিক প্রযোজনার এই সিনেমায় যুক্ত হয়েছিলেন। দেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে কাজটিকে দেখেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তী অভিজ্ঞতা তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।

সিনেমাটির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন অধরা খান।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য সময় বরাদ্দ রাখায় হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রকল্পের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেননি। যদিও চুক্তিগত গোপনীয়তার কারণে সেসব প্রকল্পের নাম বা বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

শুধু কাজের সুযোগ হারানোই নয়, অন্যান্য পেশাগত প্রতিশ্রুতি ও সময়সূচি ঠিক রাখতে না পারায় নিজের কাস্টিং ডিরেক্টর এবং এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধরা। পুরো পরিস্থিতি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

এত দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার কারণও জানিয়েছেন এই চিত্রনায়িকা। তাঁর বক্তব্য, নিজের অভিযোগের কারণে সিনেমাটির শুটিং কিংবা সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা চাননি তিনি। এ কারণেই শুরুতে নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তবে সেই নীরবতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন মনে করেছেন অধরা। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে শিল্পীদের সময়, শ্রম এবং পেশাগত সম্মানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

এ অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে নিজের ক্যারিয়ারের বড় ভুল হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে কাউকে ছোট করা বা সিনেমাটির ক্ষতি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয় বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

এর আগে গত আগস্টে কানাডায় ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা আসে। কামাল হোসেন বাবর পরিচালিত সিনেমাটির শুটিং কানাডার টরন্টো ও ক্যালগেরিসহ বিভিন্ন স্থানে হওয়ার কথা জানানো হয়। এতে অধরা খানের পাশাপাশি চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও চিত্রনায়িকা শিরিন শিলার অভিনয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

গত ২৭ আগস্ট টরন্টোয় সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাকশন, রোমান্স ও থ্রিলারধর্মী গল্পের সিনেমাটিতে কানাডায় বেড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল অধরার।

সিনেমাটির কাজ নিয়ে শুরুতে আশাবাদী ছিলেন তিনি। গণমাধ্যমে দেওয়া আগের বক্তব্যেও আন্তর্জাতিক প্রযোজনার এই চলচ্চিত্রকে নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন অভিনেত্রী।

অন্যদিকে সিনেমাটির শুটিং কার্যক্রম চলার কথা জানিয়েছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। সম্প্রতি কানাডিয়ান পুলিশের পোশাকে নিজের ছবি প্রকাশের পর তিনি জানান, সিনেমাটির শুটিংয়ে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় এসেছেন।

তবে অধরা খানের সরে দাঁড়ানোর পর তাঁর চরিত্রে নতুন কাউকে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পরিচালকের বিরুদ্ধে অধরার তোলা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা বা প্রযোজনা কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিনেত্রীর অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

‘ভায়োলেন্স’ থেকে অধরার সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাণে পেশাদার যোগাযোগ, শুটিংয়ের সময়সূচি এবং শিল্পীদের প্রতি পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।