সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, নিয়মিত কথাবার্তা, এরপর প্রেম। সেই সম্পর্কের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে রংপুরের পীরগঞ্জের আবিদা সুলতানাকে বিয়ে করেছেন ২৯ বছর বয়সী ঝাও হুইয়ান। বিয়ের আগে ইসলাম গ্রহণ করে তিনি নিজের নাম ‘আয়ান ইসলাম’ রাখেন বলে জানিয়েছে আবিদার পরিবার।
ঝাও হুইয়ান চীনের সিচুয়ান প্রদেশের পিংচাং কাউন্টির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আবিদার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগের একটি অ্যাপের মাধ্যমে। প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত যোগাযোগের পর সম্পর্কটি প্রেমে গড়ায় এবং একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দিতে গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে পৌঁছান ঝাও হুইয়ান। ঢাকা থেকে সড়কপথে রংপুরে গিয়ে আবিদা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরে দুই পরিবারের আলোচনার পর বিয়েতে সম্মতি দেওয়া হয়।
একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদন এবং শানেরহাট ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের প্রথমডাঙ্গা গ্রামে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমও জানিয়েছে, ওই দিনই রংপুরে ইসলাম গ্রহণ করে ঝাও হুইয়ান ‘আয়ান ইসলাম’ নাম নেন এবং রাতেই পারিবারিকভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়।
তবে বিয়ের সময় নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে প্রথমডাঙ্গা গ্রামে আবিদার মামার বাড়িতে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, আজকের পত্রিকা, এনটিভি ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের বক্তব্যে ১০ সেপ্টেম্বর রাতের কথা এসেছে।
আবিদা পীরগঞ্জের মিঠিপুর এলাকার সোলায়মান মিয়ার মেয়ে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রথমডাঙ্গা এলাকায় আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আবিদার বাবা সোলায়মান মিয়া জানিয়েছেন, দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে এবং ইসলামি রীতি অনুযায়ী বিয়ে পড়ানো হয়েছে। তাঁর মা লাকি বেগমও মেয়ের সম্মতি ও পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আয়োজনের কথা জানিয়েছেন। ঝাও হুইয়ান ইসলাম গ্রহণ করে আয়ান ইসলাম নাম নিয়েছেন বলেও পরিবারটি জানিয়েছে।
শানেরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলামও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে থেকেই দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ঝাও হুইয়ান। দুই পরিবারের সম্মতিতে পরে তাঁদের বিয়ে হয়।
চীনা যুবকের পীরগঞ্জে এসে স্থানীয় তরুণীকে বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নবদম্পতিকে দেখতে প্রথমডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে আশপাশের অনেক মানুষ ভিড় করেছেন। রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামও তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন বলে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ঝাও হুইয়ানের বাংলাদেশে অবস্থান, বিয়ে বা পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থার বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে নবদম্পতি বাংলাদেশে থাকবেন নাকি পরে চীনে যাবেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।