পাটকে বাংলাদেশের সোনালি আঁশ বলা হলেও চলতি মৌসুমে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় সেই আঁশই এখন অনেক কৃষকের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বিভিন্ন পাট উৎপাদন এলাকায় কৃষকেরা বলছেন, এ বছর ফলন মোটামুটি ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা আর্থিক চাপে পড়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, শ্রম, কাটা, জাক দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, শুকানো ও বাজারে নেওয়ার মোট খরচ হিসাব করলে বর্তমান দরে বিক্রি করে সন্তোষজনক আয় করা কঠিন।
কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন পাট বেশি আসায় কিছু ব্যবসায়ী ও আড়তদার দর কমিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে কৃষকের হাতে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা বা বিক্রি পিছিয়ে দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে পাট বিক্রি করছেন।
পাটচাষিরা আরও বলছেন, ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় পাটে শ্রম বেশি লাগে। বিশেষ করে জাক দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকলে খরচ আরও বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় মোট উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় বেশি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পাটের দামে ওঠানামার পেছনে স্থানীয় সরবরাহ, পাইকারি চাহিদা, রপ্তানির অবস্থা এবং মিলগুলোর ক্রয় প্রবণতা প্রভাব ফেলে। তবে কৃষকেরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার হলে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
কৃষি ও পাট খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পাট শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন এবং শিল্পের সঙ্গেও জড়িত। তাই পাটের দর দীর্ঘ সময় কম থাকলে এর প্রভাব শুধু কৃষকের পরিবারে নয়, বৃহত্তর স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়ে।
কৃষকদের দাবি, সরকারি নজরদারি বাড়ানো, বাজারে কৃত্রিম দরপতন ঠেকানো, কৃষকের জন্য সংরক্ষণ ও সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পাটকলগুলোর সরাসরি ক্রয়ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।



