শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর)। রোববার থেকে সরকারি অফিস-আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকায় রাজধানীতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন জেলা ও পর্যটনকেন্দ্রে ছুটি কাটাতে যাওয়া কর্মজীবীরা। ছুটির শেষ দুই দিনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের সংশোধিত ছুটির সূচি অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার এবং ২৪ অক্টোবর শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছেন।

গত ৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুর্গাপূজার ছুটির সূচি পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত হয়। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

তবে অতিরিক্ত ছুটি সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘ ছুটির সুযোগে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়ি, আত্মীয়স্বজনের বাসা কিংবা পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল। এখন ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময় ঘনিয়ে আসায় ফিরতি যাত্রার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ঢাকামুখী দূরপাল্লার বাস ও ট্রেনে যাত্রীচাপ বাড়তে পারে। একইভাবে ব্যক্তিগত গাড়িতে ভ্রমণকারীদের উপস্থিতি বাড়লে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতেও যানবাহনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে শুক্রবার পর্যন্ত রাজধানীমুখী যাত্রীসংখ্যা, টিকিটের চাহিদা কিংবা মহাসড়কের যানজট পরিস্থিতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো হালনাগাদ পরিসংখ্যান এই প্রতিবেদনের জন্য নিশ্চিত করা যায়নি।

ছুটির শেষ দিনে একযোগে যাত্রা করলে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই ফিরতি ভ্রমণের ক্ষেত্রে অগ্রিম টিকিট নিশ্চিত করা, যাত্রার সময় হাতে রাখা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে পরিবার নিয়ে দীর্ঘপথে যাতায়াতের সময় শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানীয় জল এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সরকারি প্রজ্ঞাপনে জরুরি সেবাকে ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, বন্দর কার্যক্রম এবং অন্যান্য জরুরি সেবা চালু রাখার নির্দেশনা রয়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং শিল্পকারখানার ছুটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা প্রযোজ্য।

আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে সরকারি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে শনিবারের মধ্যে অনেক কর্মজীবী রাজধানীতে ফেরার পরিকল্পনা করতে পারেন।

টানা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার এই সময়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা, পরিবহনের সময়সূচি এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুসরণ এবং যাত্রার আগে টিকিট ও সময়সূচি নিশ্চিত করলে ফিরতি পথে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি কমানো সম্ভব।