শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে হু/মকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার শরীয়তপুর জেলা বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। 

সর্বশেষ ঘটনা ঘটে নড়িয়া উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলা বাজার এলাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে সাগরের হা/তা/হা/তির ঘটনা ঘটে। পরে অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে। 

পুলিশ অভিযোগ যাচাই করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন সাগর তাকে গ্রে/প্তারের দাবি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে ওসির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

একপর্যায়ে ওসি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ করে সাগর বলেন, “বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে।” এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। 

বার্তা বাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগরের বিরুদ্ধে সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হু/মকি দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। 

সাম্প্রতিক এসব অভিযোগ সামনে আসার পর শরীয়তপুর জেলা বিএনপি তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়। জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশক্রমে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান। 

বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছে পাঠানো হয়েছে। 

বহিষ্কারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মতিউর রহমান সাগর। তিনি লিখেছেন, দল তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হবে বলে তিনি আশা করছেন। 

ঘটনায় নড়িয়া থানার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অভিযোগ যাচাই না করে কাউকে গ্রে/প্তার করা হবে না। পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

ওসিকে হু/মকির অভিযোগ, থানায় কাউকে গ্রে/প্তারের জন্য চাপ এবং এর পরপরই দলীয় বহিষ্কার, সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সাগরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আইনি বা দলীয় তদন্তে নির্ধারিত হবে।