মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকদের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে ক্যাশ কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রীনগর শাখায় দায়িত্ব পালনকালে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা নির্ধারিত হিসাবে জমা না দিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ব্যাংকটিতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ ওঠার পর সোহাগ আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে একই ঘটনায় ব্যাংকের আরেক ক্যাশ কর্মকর্তা জিন্নাহ হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর রসিদ পেলেও পরে জানতে পারেন সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা হয়নি। কয়েকজন গ্রাহক তাদের সঞ্চয় নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান।

ঘটনার পর অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে অনিয়মের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে এবং যাচাই-বাছাইয়ের পর বৈধ আমানত গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অভিযোগের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য এসেছে। কোথাও কয়েক কোটি টাকা, আবার কোথাও অর্ধশত কোটি টাকা পর্যন্ত অনিয়মের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শ্রীনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং অর্থ কোথায় গেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায়, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা করছে।