নির্বাচনী জোটে অংশ নিলেও প্রার্থীর নিজ দলের প্রতীক বরাদ্দের বিধান বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনে বহাল রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২০২৬ সালের সংশোধনী আইনে এ-সংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি আইনভান্ডারে প্রকাশিত আইন অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে যৌথ প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে একমত হলে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন পাওয়ার পর প্রার্থী যে দলের, সেই দলের সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ করতে পারে।

২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের খসড়ায় উপদেষ্টা পরিষদের নীতিগত অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হয়। পরে ৩ নভেম্বর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সংশোধনীতে নির্বাচনী জোটের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। এর ফলে জোটের প্রার্থী হলেই অন্য শরিক দলের প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ আগের মতো থাকবে না, এমন বিধান কার্যকর হয়। 

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। সে সময় বিএনপি সংশোধিত বিধানের বিরোধিতা করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিধানটি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জোটের প্রার্থীরা কোন প্রতীকে নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে বিতর্কের মূল বিষয় ছিল জোটের শরিক দলগুলো নিজেদের প্রার্থীদের বড় বা অন্য শরিক দলের পরিচিত প্রতীকে নির্বাচন করাতে পারবে কি না। 

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রতীক বরাদ্দের বিধানটি নিয়ে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হলেও আদালত সংশ্লিষ্ট রুল খারিজ করে দেন। ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, আদালত সংশোধিত বিধানটি বাতিলের আবেদন গ্রহণ করেননি। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পরিকল্পনার কথাও সে সময় আবেদনকারীর আইনজীবী জানিয়েছিলেন। 

পরবর্তী সময়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণীত হয়। সরকারি আইনভান্ডারে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনটি ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রণীত এবং ৩ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য। এতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ২০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বলা হয়েছে, যৌথ প্রার্থী দেওয়া দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আবেদন পাওয়ার পর প্রার্থী যে দলের, সেই দলের সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ করতে পারে। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি রহিত হলেও প্রতীক বরাদ্দের বিধানটি ২০২৬ সালের আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নির্বাচনী প্রতীক ভোটারের কাছে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই জোটের প্রার্থী মনোনয়ন, প্রতীক বরাদ্দ এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনের বিধান ও কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি ও সিদ্ধান্তও যাচাই করা উচিত।