নেপাল তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে পৌঁছেছে। সীমান্তের দুই পাশে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
নেপালে আকস্মিক বন্যার ঘটনায় ১৬২ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল, যাঁদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কাদামাটির ধস ও বন্যায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার সকালে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়ার পর বিপুল পরিমাণ বরফ, শিলা ও ধ্বংসাবশেষ নদীপথে নেমে আসে। এর ফলে নিচের দিকের জনপদগুলোতে হঠাৎ প্রবল স্রোত তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসও বলেছে, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, পরে বিশ্লেষণে হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহকে এই দুর্যোগের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলাসহ আশপাশের এলাকায় বসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে বাড়তি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিছু এলাকায় প্রবল স্রোতের কারণে হেলিকপ্টার নামানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে কাজ করছেন। তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতি উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলেছে।
নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলটি পর্যটন ও তীর্থযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বহু বিদেশি নাগরিকও দুর্যোগকবলিত এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে নেপাল ও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা এবং ভূমিধসের নতুন ঝুঁকির কারণে নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। হতাহতের ও নিখোঁজের সংখ্যা উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।


