ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সোয়া ১টার দিকে এ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।
নিহত চারজন হলেন জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তাঁর মা রাশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা বেগম এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনাল। অন্য তিনজন হলেন অটোরিকশাচালক সুজন আলী এবং যাত্রী আকরাম আলী ও তাঁর স্ত্রী মমতা বেগম।
স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। শুক্রবার সকালে মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে গাজীপুরে ফেরার জন্য নান্দিনা বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হন। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
মোফাজ্জলের পরিবারের জন্য এই মৃত্যু আরও ভারী হয়ে এসেছে। তাঁর ভাই মোবারক আলী চার স্বজনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মোফাজ্জল তাঁর মা, মেয়ে ও নাতিকে কয়েক দিনের জন্য গাজীপুরে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে পাশ কাটানোর সময় সংঘর্ষটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাস ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। বাসটির চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন।
দুর্ঘটনার পর আকুয়া বাইপাস সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে দ্রুতগতির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জামালপুরের রানাগাছা ইউনিয়নে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। একসঙ্গে এতজন স্বজনকে হারিয়ে পরিবারটির সামনে এখন শুধু শেষকৃত্য নয়, এই আকস্মিক শোক সামলে ওঠার কঠিন সময়ও।