ব্যক্তিগতভাবে এই পুরস্কার জয়ী প্রথম ফুটবলার মেসি
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, স্পেনের আস্তুরিয়াস অঞ্চলের ওভিয়েদো শহরের ক্যাম্পোআমোর থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনরের হাত থেকে পুরস্কার নেন ইন্টার মায়ামির এই তারকা। এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এই পুরস্কার জয়ী ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হলেন তিনি।
২০২৬ সালের ৩ জুন মেসিকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করার ঘোষণা দেয় প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন। তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে তাঁর ধারাবাহিক দাতব্য কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিচারকমণ্ডলী।
মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কাজের স্বীকৃতি
পুরস্কার ঘোষণার সময় বিচারকমণ্ডলী মেসির অসাধারণ প্রতিভা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বিনয় এবং দলীয় খেলায় তাঁর অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে। তাদের মূল্যায়নে, ফুটবলের ইতিহাসে সর্বাধিক শিরোপাজয়ী খেলোয়াড় হিসেবে মেসির অবস্থান যেমন অনন্য, তেমনি মাঠের বাইরেও তাঁর সামাজিক অবদান প্রশংসার দাবি রাখে।
মেসির মানবিক কার্যক্রমের অন্যতম ক্ষেত্র হলো তাঁর প্রতিষ্ঠিত লিও মেসি ফাউন্ডেশন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরস্কারটির ক্ষেত্রে তাঁর এই দীর্ঘমেয়াদি কাজও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
পুরস্কার গ্রহণের পর কী বললেন মেসি
পুরস্কার গ্রহণের আগে মেসি জানান, এই স্বীকৃতি পেয়ে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত। স্পেন ও কাতালোনিয়ার সঙ্গে তাঁর জীবনের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। খেলোয়াড় হিসেবে বেড়ে ওঠার সময় তিনি সেখানে বহু বছর কাটিয়েছেন, আর তাঁর সন্তানদেরও জন্ম স্পেনে। সে কারণে এই সম্মান তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে বলে জানান তিনি।
মেসি আরও বলেন, নিজের সাফল্যকে তিনি কখনো একার অর্জন হিসেবে দেখেন না। সতীর্থ, পরিবার এবং দীর্ঘ পথচলায় সহযোগিতা করা অনেক মানুষের অবদান রয়েছে তাঁর প্রতিটি অর্জনের পেছনে। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যেন স্বপ্ন দেখতে শেখে, কঠোর পরিশ্রম করে এবং ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ফুটবলের ইতিহাসে আগেও এসেছে এই পুরস্কার
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। খেলাধুলাসহ বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ক্রীড়া বিভাগে পুরস্কারটি তাঁদের স্বীকৃতি দেয়, যাঁদের সাফল্য এবং খেলাধুলার প্রতি অবদান সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ফুটবলের সঙ্গে এই পুরস্কারের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০০২ সালে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দল এবং ২০১২ সালে সাবেক স্প্যানিশ তারকা ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ যৌথভাবে এই সম্মান পেয়েছিলেন। তবে মেসির অর্জনের বিশেষত্ব হলো, এবার কোনো দল বা একাধিক খেলোয়াড়ের যৌথ স্বীকৃতির পরিবর্তে একজন ফুটবলার হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কারটি পেলেন।
মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরেকটি মাইলফলক
বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলে বিশ্ব ফুটবলে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন মেসি। ক্লাবটির হয়ে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জেতাতে নেতৃত্ব দেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন এই ফরোয়ার্ড। তাঁর ক্যারিয়ারের সাফল্য এবং মাঠের বাইরের সামাজিক উদ্যোগ মিলিয়েই এবারের স্বীকৃতি এসেছে।
৩৯ বছর বয়সে এসে মেসির অর্জনের তালিকায় যুক্ত হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ সম্মান। ব্যক্তিগতভাবে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার জয়ী প্রথম ফুটবলার হিসেবে তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, ফুটবল ও সমাজে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি অবদানেরও স্বীকৃতি।




