দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে কোম্পানি আইন সংস্কারের দাবি উঠেছে। Companies Act, 1994 সংশোধনের খসড়া নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন, পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে।

আলোচনায় নিষ্ক্রিয় ও দীর্ঘদিন কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধন তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুল সংখ্যক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেক কোম্পানি বাস্তবে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে না, যা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা ও তথ্য ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি করছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩ লাখ নিবন্ধিত কোম্পানি রয়েছে। তবে এর মধ্যে কতগুলো নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছে, কতগুলো নিষ্ক্রিয় রয়েছে—এ নিয়ে পরিষ্কার তথ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা।

কোম্পানি আইন সংশোধনের আলোচনায় অডিটর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা, কোম্পানি গ্রুপের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)-এর নোটিশ সময় পরিবর্তনের মতো বিষয়ও উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা মনে করছেন, আধুনিক ব্যবসা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে কোম্পানি আইনকে আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং করপোরেট সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে।

অডিট, আর্থিক প্রতিবেদন এবং কোম্পানির পরিচালন কাঠামোয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন সংশোধন করলেই হবে না, বরং নিয়মিত তদারকি, ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিবন্ধিত কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করাও জরুরি।

কোম্পানি আইন সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।