কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণার ঘাঁটি? অভিযানের পর ছড়িয়ে পড়েছে শত শত বিদেশি

কক্সবাজারে অনলাইন আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর কয়েকশ বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন স্থানে সরে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভুয়া বিনিয়োগ প্রস্তাব, নকল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের রামু এলাকায় চালানো এক অভিযানে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক আইফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার করা প্রযুক্তি সরঞ্জাম বিশ্লেষণ করে অনলাইন প্রতারণার ধরন, অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি এবং চক্রের সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদেরও টার্গেট করা হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতারক চক্রগুলো আকর্ষণীয় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া বিনিয়োগের প্রস্তাব দিত। পরে নকল ট্রেডিং ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা টাকা তুলতে গেলে নানা অজুহাত দেখিয়ে অর্থ আটকে রাখা বা আরও টাকা দাবি করা হতো।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করা আরও কয়েকশ বিদেশি নাগরিক স্থান পরিবর্তন করেছে। তাদের অবস্থান, বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধতা এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।

সাইবার অপরাধ তদন্তকারীরা বলছেন, অনলাইন আর্থিক প্রতারণা বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি বড় অপরাধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং ভুয়া বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারকরা সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে।

কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের এমন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যটননির্ভর এই জেলায় বিদেশিদের অবস্থান, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং অনলাইন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শুধু আটক ব্যক্তিদের নয়, পুরো চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। উদ্ধার হওয়া ডিভাইস ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বিনিয়োগ বা দ্রুত লাভের প্রলোভনে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে। কোনো অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণের আগে তার বৈধতা যাচাই করা জরুরি।

কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণার এই ঘটনায় তদন্ত কতদূর এগোয় এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।