রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে ১৮টি ছবির মাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, স্মৃতি ও প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসকে সামনে রেখে শনিবার থেকে শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রদর্শনীটি দেখতে পারবেন।
প্রদর্শনীর ছবিগুলো তুলেছেন আলোকচিত্রী জীবন আহমেদ ও মোশফিকুর রহমান জোহান। কোথাও একজন নারী স্বামীর ছবি হাতে ধরে আছেন, কোথাও মা তুলে ধরেছেন নিখোঁজ সন্তানের প্রতিকৃতি। আবার কোনো ছবিতে নিখোঁজ স্বজনের ছবি নিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে পরিবারের সদস্যদের।
প্রতিটি ছবির মধ্য দিয়ে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের অনিশ্চিত অপেক্ষার একটি করে গল্প সামনে এসেছে। আয়োজকদের ভাষ্যে, ছবিগুলো শুধু অতীতের ঘটনা তুলে ধরছে না, বরং যাঁদের স্বজন এখনো নিখোঁজ, তাঁদের স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকেও ধারণ করছে।
প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন মায়ের ডাক। এর সমন্বয়ে রয়েছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজ। প্রদর্শনীর প্রোডাকশনে ছিলেন মো. আল ফরিদ এবং পরিকল্পনায় ছিলেন হাদী উদ্দীন।
উদ্বোধনী আয়োজনে গুমের শিকার পারভেজ হোসনের মেয়ে ঋদ্ধি তাঁর বাবার নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এক যুগের বেশি সময় ধরে বাবার কোনো সন্ধান না পাওয়ার কারণে তাঁর শৈশব ও স্কুলজীবনের অনেক স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও বক্তব্য দেন। তিনি গুম প্রতিরোধে প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরির কথা জানান।
একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজের গুমের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি আলোচনায় গুমের প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠে আসে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস প্রতি বছর ৩০ আগস্ট পালিত হয়। এ উপলক্ষে শনিবার ঢাকায় মায়ের ডাকের আয়োজনে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
জাতীয় জাদুঘরের এই প্রদর্শনীতে তাই আলোকচিত্রের পাশাপাশি উঠে এসেছে পরিবারের অপেক্ষার বাস্তবতা। নিখোঁজ স্বজনদের স্মৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি তাঁদের সন্ধান, বিচার ও জবাবদিহির দাবিও সামনে এনেছে আয়োজনটি।


