গুমের ঘটনা বন্ধে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ৩০ আগস্ট সামনে রেখে এক সংবাদ বিবৃতিতে সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়।

আসক বলেছে, গুমের অবসান ঘটাতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। গুমের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

সংগঠনটির মতে, অতীতে ঘটে যাওয়া গুমের ঘটনাগুলোর সত্য উদ্‌ঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, খসড়াটি ২৭ জুলাই ২০২৬ সাধারণ মানুষের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয় এবং ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

আসক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংগঠনটি বলেছে, খসড়াটির কিছু বিধান নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্বেগ রয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানানো এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি সামনে আনা। বাংলাদেশে এ দিবসকে কেন্দ্র করে গুমের অভিযোগের তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।

আসক আরও বলেছে, আইনের পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংগঠনটি গুমের শিকার সব ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিখোঁজদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য উদ্‌ঘাটন এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।