গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০১০–২০১২ সময়ের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন সাবেক কর্মীরা। ‘গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ৭ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের আইনগত পাওনা নিয়ে জটিলতা চলছে। তাদের দাবি, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের Workers’ Profit Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত পাওনার বিলম্বজনিত অর্থ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, ২০১০ সালে মোবাইল ফোন অপারেটরদের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল আন্ডারটেকিং’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর শ্রম আইনের আওতায় কর্মীদের মুনাফার অংশ পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে মোবাইল অপারেটরদের WPPF-এর আওতায় আনার বিষয়টি ২০১৩ সালের শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। 

গ্রামীণফোনের নিজস্ব বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের সরকারি আদেশের পর বিষয়টি নিয়ে তারা হাইকোর্টে যায় এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় ছিল। কোম্পানির দাবি, আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০১০–২০১২ সালের মূল WPPF অর্থ ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা হয় এবং ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি কর্মী তাদের অংশ পেয়েছেন। তবে কিছু সাবেক কর্মী অতিরিক্ত অর্থ, বিশেষ করে সুদ বা বিলম্বজনিত পাওনা নিয়ে মামলা করেছেন। 

গ্রামীণফোন আরও বলছে, এসব দাবি নিয়ে বিভিন্ন মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে টেলিনরও জানিয়েছে, সাবেক কর্মীদের করা মামলায় শ্রম আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন উচ্চতর আদালতে গেছে এবং আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। 

অন্যদিকে সাবেক কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে তাদের পাওনা বছরের পর বছর আটকে রয়েছে। ৭ জুলাইয়ের মানববন্ধনে তারা দাবি করেন, প্রায় ৪ হাজার সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার এই অর্থের সঙ্গে জড়িত। আন্দোলনকারীরা মোট দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা বললেও এই অঙ্কের চূড়ান্ত বৈধতা বা প্রাপ্যতা এখনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়নি। 

মানববন্ধন থেকে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ, সরকার ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত একটি কার্যকর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা, গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ তুলে এসব বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। 

গ্রামীণফোন অবশ্য আন্দোলনকারীদের অভিযোগের বিপরীতে বলেছে, অধিকাংশ সাবেক কর্মী তাদের আইনগত পাওনা পেয়েছেন এবং বর্তমানে যেসব অতিরিক্ত দাবি তোলা হচ্ছে, সেগুলো আদালতে বিচারাধীন। কোম্পানির ভাষ্য, আদালতের প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবে। 

মানববন্ধনের পরও বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন থামেনি। সর্বশেষ ২৭ আগস্ট গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা ২০১০–২০১২ সময়ের ৫ শতাংশ বিলম্বজনিত পাওনা ও ক্ষতিপূরণ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) স্মারকলিপি দেন এবং সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। 

ফলে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের একদিকে সাবেক কর্মীদের পাওনা পরিশোধের দাবি, অন্যদিকে গ্রামীণফোনের আদালতনির্ভর অবস্থান—দুই পক্ষের অবস্থানই এখনো মুখোমুখি। আদালতের চলমান প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত পাওনা ও বিলম্বজনিত অর্থের দাবির আইনি নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।