গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা, আগস্টে উৎপাদন নেমেছে বহু বছরের নিম্নস্তরে

দেশে গ্যাস সরবরাহে নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে। আগস্ট মাসে দেশের গড় দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমে ২ হাজার ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থাপনাতেও চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

শিল্পকারখানাগুলোতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

আবাসিক গ্রাহকরাও দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম ও চাপ কম থাকার সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে রান্নার কাজে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক এলাকায় ভোগান্তি বাড়ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় উৎপাদন, আমদানি ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান চাহিদা পূরণে স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত এখনো বড় অংশে গ্যাসনির্ভর। ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে এর প্রভাব সরাসরি অর্থনীতি, উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়ে।

সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান না হলে জ্বালানি সংকট ভবিষ্যতেও চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।