এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের অভিযান শুরু হচ্ছে আজ। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিনবারের এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া।

বাংলাদেশের জন্য এবারের আসরটি বিশেষ, কারণ এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবল প্রতিযোগিতায় এটি দলের দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। এর আগে ২০২২ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার তিন ম্যাচে একটি ড্র ও দুটি হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলকে।

এবার ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। তিন গ্রুপের সেরা দুই তৃতীয় দলও শেষ আটে জায়গা পাবে।

শুরুতেই অবশ্য কঠিন প্রতিপক্ষ পেয়েছে বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। চলতি বছরের মার্চে এএফসি নারী এশিয়ান কাপে দুই দল মুখোমুখি হলে বাংলাদেশ ৫-০ গোলে হেরেছিল। ওই ম্যাচে উত্তর কোরিয়া দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল।

তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেয়। বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সেই সাফল্য অর্জন করে দলটি। FIFA-ও বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে আলাদা করে তুলে ধরেছে।

এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও বাংলাদেশ দল জাপানে যাওয়ার আগে চীনে ক্যাম্প করেছে। ১০ সেপ্টেম্বর গুয়াংডং উইমেনস এফসির বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে চীনের ক্যাম্প শেষ করে দলটি। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর জাপানে পৌঁছে বাংলাদেশ।

এবারের এশিয়ান গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে নারী ফুটবলের সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের অভিযান শুরু হচ্ছে তারও পাঁচ দিন আগে। উত্তর কোরিয়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের নারী দলের ধারাবাহিক উন্নতি থাকলেও এবার গ্রুপে রয়েছে এশিয়ার শক্তিশালী দুই কোরিয়ান দল। ফলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শুধু কঠিন পরীক্ষাই নয়, নিজেদের বর্তমান অবস্থান যাচাইয়েরও বড় সুযোগ।