আলোচিত মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও থেরানোসের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমসকে নিয়ে নির্মিত নতুন তথ্যচিত্র You Can See Everything আন্তর্জাতিক বিনোদন ও প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তি খাতে একসময় সাফল্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হোমসের ব্যক্তিগত জীবন, বিতর্কিত ব্যবসায়িক দাবি এবং আইনি পরিণতির নানা দিক উঠে এসেছে এতে।
তথ্যচিত্রটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন মার্কিন নির্মাতা নাথান ফিল্ডার ও ল্যান্স ওপেনহাইম। চলচ্চিত্রটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান এ২৪।
তথ্যচিত্রটির মূল বিষয়বস্তু এলিজাবেথ হোমসের কারাগারে যাওয়ার আগের ৩৪ দিনের জীবন। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথোপকথন ধারণ করেন নির্মাতারা।
দীর্ঘ সময় ধরে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে হোমসের সঙ্গী বিলি ইভান্স এবং তাঁদের পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তও স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি নিজের ভাবমূর্তি, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অতীতের ঘটনাগুলো সম্পর্কে হোমসের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
এলিজাবেথ হোমস ২০০৩ সালে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেরানোস প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, আঙুল থেকে নেওয়া অল্প কয়েক ফোঁটা রক্ত ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।
এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ সংগ্রহ করে থেরানোস। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির অন্যতম আলোচিত স্টার্টআপে পরিণত হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রক্ত পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে থেরানোসের ব্যবসায়িক দাবি ও বাস্তব প্রযুক্তির মধ্যে অসংগতি প্রকাশ পায়।
এরপর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্র/তা/র/ণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন এলিজাবেথ হোমস।
২০২২ সালে তাঁকে ১১ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি কারাগারে যান।
নতুন তথ্যচিত্রটিতে এসব ঘটনার পাশাপাশি হোমস কীভাবে নিজের অতীতের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড ব্যাখ্যা করেন, সেটিও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা।
তথ্যচিত্র নির্মাণের সময় হোমসের সঙ্গে পরিচালকদের কথোপকথন ও সম্পর্কের পরিবর্তনও চলচ্চিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নির্মাতা নাথান ফিল্ডার জানিয়েছেন, চিত্রগ্রহণের সময় বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। ফলে চলচ্চিত্রটি শুধু একজন বিতর্কিত উদ্যোক্তার জীবনকাহিনি নয়, বরং সত্য, বিশ্বাস এবং গণমাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচয় উপস্থাপনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
চলচ্চিত্রটি সেপ্টেম্বরে টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। পরে নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবেও এটি দেখানো হয়। প্রদর্শনীর পর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের মধ্যে এর নির্মাণশৈলী এবং হোমসের ব্যক্তিগত জীবনের উপস্থাপনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
প্রায় ১৭৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্রটি আগামী ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

