২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমে ৫২.১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এই হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। ফল প্রকাশের পর এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে এই পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যেন একটি পুরো শিক্ষাবর্ষ হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যেই পুনরায় পরীক্ষার আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন।

এবারের ফলাফলে পাসের হার কমার পাশাপাশি শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এ বছর ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। অন্যদিকে, শতভাগ পাস করেছে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফলাফলের এই অবনতি শুধু একটি বা দুটি বিষয়ের সমস্যা নয়। শিক্ষাদান পদ্ধতি, পাঠ্যবই এবং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ঘাটতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক দুর্বল ফলের উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, মূল্যায়নে ভুল বা স্বচ্ছতার ঘাটতি কমাতে এবার পরীক্ষকদের তুলনামূলক কমসংখ্যক উত্তরপত্র দেওয়া হয়েছে। অতীতে পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যেসব শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেবে না বা পরীক্ষার পরও উত্তীর্ণ হতে পারবে না, তাদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় যুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তবে পুনরায় পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদনপ্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক নিয়মাবলি সম্পর্কে শিক্ষা বোর্ডগুলোর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের তাই পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির জন্য নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।