বন্ধ তিন রাষ্ট্রায়ত্ত মিলের জমিতে Economic Zone করার পরিকল্পনা

বছরের পর বছর বন্ধ পড়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমিকে নতুন করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকার ডেমরার দুটি বন্ধ পাটকল এবং কুষ্টিয়ার একটি বন্ধ চিনিকলের জমিতে Economic Zone গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে লতিফ বাওয়ানী জুট মিল লিমিটেড, করিম জুট মিল লিমিটেড এবং কুষ্টিয়া সুগার মিলস লিমিটেড। BEZA-র কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা এসব সরকারি শিল্পসম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।

ডেমরার দুই পাটকলের মধ্যে করিম জুট মিলের জমি প্রায় ৫০ একর এবং লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের প্রায় ৮৩ একর। দুই মিল মিলিয়ে প্রায় ১৩৩ একর জমি নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

দুটি কারখানাই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিল লোকসানের কারণে ২০০০ সাল থেকে কার্যত উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এখন এসব জমি পুরোনো শিল্প কাঠামোয় ফেলে না রেখে নতুন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করার চিন্তা করছে সরকার।

আরও বড় জায়গা রয়েছে কুষ্টিয়া সুগার মিলের হাতে। প্রায় ২২০ একর জমির ওপর থাকা এই রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদন ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় মিলটির মূল্যবান যন্ত্রপাতিও ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। এর আগে মিলটি পুনরায় চালুর আলোচনা থাকলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। এখন পুরো জায়গাটিকে নতুন শিল্পাঞ্চল বা Economic Zone হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

কুষ্টিয়া সুগার মিলকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই BEZA-র governing board মিলটির জায়গাকে পূর্ণাঙ্গ industrial park ও Economic Zone হিসেবে ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন পরিকল্পনায় সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে কাগজে পরিকল্পনা হলেই সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নতুন কারখানা গড়ে উঠবে না।

BEZA জানিয়েছে, প্রথম বড় কাজ হবে তিন মিলের জমি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা। তার আগে মিলগুলোর বকেয়া ঋণ, শ্রমিক-কর্মচারীর পাওনা ও অন্যান্য দায় নিষ্পত্তি করতে হবে। Adamjee Jute Mills-এর জমি হস্তান্তর করে যেভাবে Adamjee EPZ গড়ে তোলা হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাকে একটি model হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এরপর নতুন Economic Zone-এ বিনিয়োগকারী আনতে প্রয়োজন হবে অভ্যন্তরীণ সড়ক, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ এবং অন্যান্য utility infrastructure। এসব সুবিধা নিশ্চিত না হলে শুধু জমি বরাদ্দ দিয়ে বড় বিনিয়োগ টানা কঠিন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সরকার Adamjee EPZ-এর উদাহরণও সামনে রাখছে। বন্ধ Adamjee Jute Mills-এর প্রায় ২৯৩ একর জায়গায় গড়ে ওঠা EPZ-তে বর্তমানে কয়েক ডজন শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং সেখানে ৭৬ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই মডেলই দেখাচ্ছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের জমি নতুনভাবে ব্যবহার করলে সেটি আবারও বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

তিনটি মিল মিলিয়ে প্রায় ৩৫৩ একর জমি নতুন শিল্পায়নের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও কুষ্টিয়ার এই দীর্ঘদিনের বন্ধ শিল্পভূমি আবারও উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—মিলগুলোর পুরোনো দায় কত দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং জমি হস্তান্তর ও অবকাঠামো তৈরির কাজ বাস্তবে কতটা দ্রুত এগোয়। পরিকল্পনার সাফল্য শেষ পর্যন্ত সেখানেই নির্ভর করবে।