বাংলাদেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই। ৫৯ বছর বয়সে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন bdnews24.com-এর সম্পাদক ও প্রধান সম্পাদক। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের আবহ।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশের সংবাদমাধ্যমের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিকাশের সময়ে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার ইতিহাসে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিকতার শুরু থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি অনলাইন সাংবাদিকতার দিকে মনোনিবেশ করেন। পরে bdnews24.com প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন এবং প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশে যখন সংবাদ পরিবেশনের প্রধান মাধ্যম ছিল মূলত সংবাদপত্র ও টেলিভিশন, তখন অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে একটি স্বতন্ত্র সংবাদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে bdnews24.com গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সংবাদ প্রকাশ, সার্বক্ষণিক আপডেট এবং অনলাইনভিত্তিক সাংবাদিকতার নতুন ধারা গড়ে তুলতে কাজ করে।
তাঁর সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের কাজের ধরন কীভাবে বদলাবে, পাঠক কীভাবে সংবাদ গ্রহণ করবে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সাংবাদিকতার মান কীভাবে ধরে রাখা যায়—এসব বিষয়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
দেশের সাংবাদিক মহলে তিনি পরিচিত ছিলেন স্পষ্ট মতামত ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থানের জন্য। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতার পেশাগত মান, তথ্যের নির্ভুলতা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সম্পাদক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শোক জানিয়েছেন। সহকর্মীদের কাছে তাঁর মৃত্যু শুধু একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বিদায় নয়, বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার শুরুর সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে হারানো।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর কর্মজীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের রূপান্তর। মুদ্রিত সংবাদপত্রের যুগ থেকে দ্রুতগতির ডিজিটাল সংবাদ পরিবেশনে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই পরিবর্তনের অন্যতম অংশীদার ছিলেন তিনি।
৫৯ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া সাংবাদিকতার অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে। তবে দেশের ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের বিকাশে তাঁর কাজ এবং অনলাইন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে রেখে যাওয়া অবদান দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে।
