ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন প্রতিক্রিয়া জানালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে থাকা কোনো ব্যক্তির ছবি বা উপাদান প্রদর্শনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে।
ডাকসু সংগ্রহশালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন, ইতিহাস ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক সংরক্ষণের একটি উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হয়। সেখানে প্রদর্শিত বিভিন্ন ছবি ও তথ্যের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠেছে।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেল হন। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও পাকিস্তানি শাসনামলের প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে।
ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি সামনে আসার পর কয়েকটি ছাত্র সংগঠন এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কেউ কেউ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থাপনের ক্ষেত্রে গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু নির্ধারণে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাকসু নির্বাচন ও নতুন কার্যক্রম শুরুর পর সংগ্রহশালার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
