বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হতে পারে। গত জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এই হার ছিল ৩ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে নতুন এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা চলাকালে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

আইএমএফ জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো এই বিনিয়োগ থেকে সুবিধা পাচ্ছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে রয়েছে। তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

আইএমএফের নতুন প্রধান অর্থনীতিবিদ সিলভানা তেনরেইরো সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলেও সেই সক্ষমতা ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে ৩ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে। তবে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। পরের বছর তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশভিত্তিক পূর্বাভাসে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ, চীনের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ভারতের ৭ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এআই খাতে বিনিয়োগের সুফল সব দেশ সমানভাবে পাচ্ছে না। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উচ্চ সরকারি ঋণ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রযুক্তি খাতে বিপুল বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা অর্জিত না হলে আর্থিক বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।