বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মিষ্টির উত্তরসূরি কে, আলোচনায় একাধিক নেত্রী
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সাবেক সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেত্রী এ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। তবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর, বাছাই ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ নভেম্বর।
কেন শূন্য হলো আসনটি
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে বিতর্কের মুখে পড়েন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ওই ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। পরে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় একই দিন তাঁর সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। তবে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াকে আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে।
আলোচনায় যেসব নেত্রীর নাম
বাংলা ট্রিবিউন ও প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বিএনপির একাধিক নেত্রীর নাম সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। তিনি এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেত্রী ও আইনজীবী শাহানা আক্তার সানু, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম সাগর এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিসের নামও আলোচনায় রয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী আসমা আজিজ, বরিশাল মহানগর বিএনপির নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিন, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা হীরা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক সূচি।
জোটের শরিক বা সংস্কৃতি অঙ্গনের কেউ কি আসবেন
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বিএনপির বাইরে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের কয়েকজন নেত্রীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকার কথা বলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজী।
সংস্কৃতি অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এসেছে। তবে এসব নাম আলোচনায় থাকা মানেই তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবাই প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে কে
বিএনপির শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। যোগ্য ও ত্যাগী নেত্রীরা মূল্যায়ন পাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী থাকলে বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। একক প্রার্থী থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এখন অপেক্ষা দলীয় ঘোষণার
মিষ্টির পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী নেত্রীদের নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাকে দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় বিএনপির নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ কেন্দ্রীয় নেত্রী, তৃণমূলের সংগঠক, নাকি জোটের শরিক দলের কেউ এ আসনে মনোনয়ন পান, তা স্পষ্ট হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে।




