ভারতের বিহার রাজ্যে গঙ্গা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৩ শিশুর মৃ/ত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বৈশালী জেলার রাঘোপুর এলাকায় নদী পার হওয়ার সময় যাত্রীবাহী নৌকাটি ডুবে যায়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, নদী থেকে ১৩ শিশুর মৃ/তদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
বৈশালী জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বর্ষা সিং জানিয়েছেন, রাঘোপুর থানার অন্তর্গত রামপুর শ্যামচাঁদ গ্রামের কাছে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। তবে মোট কতজন যাত্রী নৌকায় উঠেছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীরা গঙ্গা নদী পার হয়ে পাশের একটি গ্রামে আয়োজিত ভোজ অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন শিশু ও কিশোর-কিশোরী।
নদীর মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর নৌকাটি উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
দু/র্ঘ/টনার খবর পেয়ে রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পাশাপাশি পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান।
বুধবার দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বর্ষা সিং জানান, তখন পর্যন্ত ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মৃ/ত্যুর সংখ্যা ১৩ জনই রয়েছে। নদীতে আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নৌকাডুবির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নি/হ/ত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক মৃ/ত ব্যক্তির পরিবারকে দুই লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারপ্রতি চার লাখ রুপি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
নৌকাডুবির প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নৌকাটির অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
দু/র্ঘ/টনার পর স্থানীয় নদীপথে যাত্রী নিরাপত্তা, নৌযানের ধারণক্ষমতা ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

