সওজের জোন অফিস বগুড়ায়, বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

বগুড়ায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নতুন জোন অফিস অনুমোদনের কথা জানিয়ে ‘পারলে ঠেকান’ মন্তব্য করেছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর এই বক্তব্যের পর বগুড়ায় সরকারি দপ্তর স্থাপন এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর নিয়ে বগুড়া ও রাজশাহীর মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়।

গত ২ আগস্ট বগুড়ায় একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বগুড়ার উন্নয়নের প্রশ্নে জেলার সাত সংসদ সদস্য কোনো ছাড় দিতে রাজি নন। সওজের জোন অফিস বগুড়ায় অনুমোদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, আগে এ অঞ্চলের মানুষকে দাপ্তরিক কাজে রংপুরে যেতে হতো।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে শুধু সওজের কার্যালয় নয়, নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়টিও উঠে আসে। নেসকোর সেবা পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় এলে রাজশাহীর মানুষের আপত্তি থাকার কারণ কী। তাঁর বক্তব্য ছিল, বগুড়ায় প্রধান কার্যালয় হলে রাজশাহীতে জোনাল অফিস রাখা যেতে পারে।

বাস্তবে চালু হয়েছে সওজের নতুন জোন

সওজের জোন অফিস নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক দিন পর, ৮ আগস্ট বগুড়ায় নতুন সড়ক জোনের উদ্বোধন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে মীর শাহে আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক নয়া দিগন্ত

নতুন এই জোনের আওতায় রয়েছে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ—উত্তরের পাঁচ জেলা। সওজের এটি ১১তম জোন। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব জেলার সড়ক নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত করা সম্ভব হবে। রংপুরে দাপ্তরিক কাজে যাতায়াতের প্রয়োজনও কমবে।

দৈনিক নয়া দিগন্ত

নেসকোর কার্যালয় নিয়ে ভূমিমন্ত্রীর পাল্টা বক্তব্য

এদিকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের আলোচনা সামনে আসার পর এর বিরোধিতা করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। গত ৫ আগস্ট রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নেসকোসহ রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানেই থাকবে। কোনো ঠিকাদারের বক্তব্যে এসব প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভূমিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, বিষয়টি শুধু বগুড়ায় নতুন সরকারি দপ্তর স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নেসকোর প্রধান কার্যালয় কোথায় থাকবে, তা নিয়েও দুই অঞ্চলের রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে এসেছে।

সমকাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

উন্নয়ন ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক

বগুড়ায় নতুন সরকারি দপ্তর স্থাপনের পক্ষে মীর শাহে আলমের যুক্তি হলো, দীর্ঘদিন ধরে জেলাটি বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে পিছিয়ে ছিল। তাঁর মতে, নতুন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, রাজশাহীর পক্ষ থেকে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয় সেখানে রাখার দাবি জানানো হচ্ছে।

তবে সওজের জোন অফিস বগুড়ায় চালু হওয়া এবং নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব এক বিষয় নয়। প্রথমটির ক্ষেত্রে নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের তথ্য পাওয়া গেছে। নেসকোর ক্ষেত্রে রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব ও তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের তথ্য থাকলেও, প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি দপ্তর কোথায় স্থাপন করা হবে, সে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রয়োজন, সেবার পরিধি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সুবিধা বিবেচনা করা জরুরি। বগুড়ায় সওজের নতুন জোন চালুর পর এখন নেসকোর প্রধান কার্যালয় নিয়ে আলোচনা কোন দিকে এগোয়, সেটিই এ বিতর্কের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দিক।