বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে চলাচলকারী বিদেশি উড়োজাহাজ থেকে রাজস্ব আয় বাড়ছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন রাডার ও আধুনিক air traffic management system চালুর পর ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণ আরও উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার বাবদ overflight revenue থেকে প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকা আয় হয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এই আয় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন surveillance system চালুর ফলে আগে যেসব flight movement শনাক্ত করা কঠিন ছিল, সেগুলো এখন আরও নির্ভুলভাবে ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ফি প্রদান করতে হয়। এই আয়ের একটি অংশ আসে বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করার মাধ্যমে।

আধুনিক রাডার ব্যবস্থা শুধু রাজস্ব বাড়াতেই নয়, আকাশপথের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট পরিচালনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে উড়োজাহাজের অবস্থান, গতিপথ ও চলাচল আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকায় দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আকাশপথ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এই খাত থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হলে নিরাপত্তা, সেবা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের আকাশসীমা এখন শুধু যোগাযোগের পথ নয়, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।