পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের নিচে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত কার পার্কিং থেকে ফি আদায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ওই পার্কিং এলাকায় এখন কোনো ধরনের পার্কিং ফি নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের এ থেকে ডি পর্যন্ত চারটি ব্লক নিয়ে মোট ২৮ হাজার ৫১ দশমিক ১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পার্কিং ব্যবস্থা চালু ছিল। স্থগিতাদেশের আওতায় রয়েছে পুরো জায়গাটিই।
সিটি করপোরেশনের নাম ব্যবহার করে সেখানে অনিয়মের অভিযোগে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর পার্কিংয়ের চলমান কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, স্থগিতাদেশ অমান্য করে কেউ পার্কিং ফি আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশন জনগণের সেবার জন্য। নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি করে বা সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ সিটি করপোরেশন করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।
এর আগে বাবুবাজার ব্রিজের নিচের জায়গাটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ইজারা দেওয়া হলেও সেখানে পার্কিংয়ের বাইরে দোকানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ২৮ হাজার বর্গফুট জায়গা এক বছরের জন্য ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত পার্কিং ফি ছিল প্রথম ঘণ্টায় ২০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি ঘণ্টায় ১০ টাকা।
এদিকে বাবুবাজার ও বাদামতলী এলাকায় অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান চালানো হয়েছে। ২৬ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ অভিযান চালিয়ে ২১টি মামলা করেছে এবং প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। অভিযানে বাবুবাজার ব্রিজের নিচের চারটি ব্লকসহ সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ পার্কিং এবং বিভিন্ন স্থাপনা সরানো হয়।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাবুবাজার ব্রিজের নিচের পার্কিং ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে ওই এলাকার যানজট কমাতে তা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গা ও ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন মূল বিষয়।
ডিএসসিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাবুবাজার ব্রিজের নিচের ওই পার্কিং এলাকায় কোনো ফি আদায় করা যাবে না। স্থগিতাদেশ অমান্য করে ফি আদায়ের চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।



