রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামের ভেতর লুকিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, হীরা, প্লাটিনাম ও মূল্যবান রত্নপাথর উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলকাতা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। রোববার ঢাকা কাস্টমস হাউসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। এ সময় জনি রহমান নামের এক যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।

সন্দেহ হলে তাঁর ব্যাগ স্ক্যান করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। স্ক্যানিংয়ে আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে ব্যাগ খুলে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অলংকার ও মূল্যবান পাথর উদ্ধার করা হয়।

জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩৮৯টি হীরাখচিত স্বর্ণের আংটি, ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি, সাদা স্বর্ণের তিনটি অলংকার, দুটি রুপার আংটি, পাঁচটি স্বর্ণের লকেট, একটি স্বর্ণের চেইন এবং ৪৭২টি স্বর্ণের নাকফুল।

এ ছাড়া বিভিন্ন আকারের হীরা, রুবি ও পোখরাজসহ ৭২০টি মূল্যবান পাথর এবং অলংকারের সত্যতা যাচাইয়ের ২৩টি সার্টিফিকেট কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা অলংকারের মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম। এর পাশাপাশি ৪৫ ক্যারেট হীরার হিসাবও উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যায়ন সনদ অনুযায়ী জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের উপকমিশনার কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ব্যাগ তল্লাশির পর পণ্যগুলো জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করেছে। আটক যাত্রীকে পরে মামলায় গ্রে/প্তা/র দেখানো হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে উদ্ধার করা অলংকার ও মূল্যবান পাথর কী উদ্দেশ্যে দেশে আনা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়। মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।